Skip to main content

ভুতের গল্প

 একটি ভুতের গল্প লিখার পরের ঘটনা!







একটা ভূতের গল্প লিখে মন দিয়ে পড়ছিলাম। গল্পটা ভীষণ ভয়ংকর হয়ে গেছে। খুব ভয় ভয় করছিল আমার।

এমন সময় জানালার ধারে হিস্ হিস্ শব্দ! কে যেন আমাকে সাবধান করে দিচ্ছে। শরীরটা ঝাড়া দিয়ে উঠল।

একটু পর কর্কশ গলায় প্রশ্ন, এত রাতে কী লিখছিস তুই?

প্রশ্নের জবাব দেব কীভাবে, আমার কান দিয়ে শোঁ শোঁ করে বাতাস বেরুচ্ছে। বুক ডিব ডিব করছে।

আবার বলল, হেই, কথা বলছিস না কেন? কী লিখছিস, বল।

শুকনো মুখে বললাম, একটা গল্প লিখেছি, ভূতের গল্প।

ভূতের গল্প? ভূত দেখেছিস?

মাথা নেড়ে বললাম, নাহ্, দেখিনি।

না দেখেই গল্প লিখেছিস? যদি দেখতিস?

সেদিনই লেখার ইতি টানতে হতো আমার।

কেন?

ভারি মুশকিল। তখন না আমার কল্পনাগুলো খালি দেখা ভূতের মধ্যেই হাবুডুবু খেতো, এর বাইরে যাওয়াটা খুব কঠিন হয়ে যেতো না! না-দেখা জিনিসকে আমি আমার মতো করে বানিয়ে লিখতে পারি। এতে ভারি সুবিধে! আচ্ছা, তুমি কে?

আমি ভূত, আমি কি তোর সামনে আসবো এখন?

ভূত! আমার শরীরের ভেতর দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেল। আমি থতমত খেয়ে ফ্যাকাসে মুখে বললাম, না, না, না, ভুল করেও না। কোনোদিন না।

কেন? জানতে চাইল ভূতটি।

কেন আবার, তুমি কি চাও না আমি ভয়ংকর ভূতের গল্প লিখে নামকরা ’ভূত-লেখক’ হই? তুমি কি চাওনা আমি গল্প লিখে দুটো পয়সা কামাই করি? তুমি কখনও আমার সামনে এসো না ভাই, প্লিজ, এক্ষুনি চলে যাও এখান থেকে।

তোদের কারণেই মানুষ আমাদের খুব ভয়ংকর বলে জানে, ভয় পায়। আমরা কি সবাই খারাপ? তোদের মধ্যে যেমন ভালো-মন্দ মানুষ আছে, আমাদের মধ্যেও তেমন ভালো-মন্দ ভূত আছে। আর আমাদের মধ্যে ভালো ভূতের সংখ্যাই বেশি। কই, তোরা ক‘জন ভালো ভূতের কথা লিখেছিস?

তোরাই মানবসমাজে আমাদের অসভ্য আর ভয়ংকর করে তুলে ধরেছিস। তোরাই আমাদেরকে মানুষের শত্রু বানিয়ে রেখেছিস। অথচ আমরাও চাই মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে চলতে। তোদের জন্য পারি না। এতে তোদের ওপর আমরা কতটা নাখোস তা অচিরেই টের পাবি।

একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বললাম, হুঁহ্, আমরা হলাম গিয়ে লেখক। আমরাই তোদেরকে এ জগৎ সংসারে ভয়ংকর করে তুলেছি। তোদের নাম শুনলে ধনী-গরিব, শিশু-বুড়ো, রাজা-প্রজা, দুর্বল-পালোয়ান সকলেই ভয়ে অস্থির হয়ে যায়, এটা বুঝি জুত লাগছে না? বেশি বাড়াবাড়ি করলে তোদের এমন দুর্বল বানিয়ে গল্প লিখে বাজারে ছেড়ে দেবো যে, যেখানে যাবি সেখানেই খাবি মাইর। মারতে মারতে তোদের ছাতু করে ফেলবে। তারপর বুঝবি লেখক কী জিনিস।

আর তুই এখন দেখ, ভূত কী জিনিস! একথা বলেই সে আমার মুখ বরাবর জোরে ফুঁ দিল। গরম ফুঁ। আমার চোখ দুটো প্রায় বন্ধ হয়ে গেল। ফুঁ দিয়ে ভূতটি বলল, তোর ঠিক পেছন দিক থেকে একটা লেজ গজাবে। তখন দুষ্টু শিশুরা তোর লেজ দেখেই ঠিক করবে, তুই গরু, গাধা না বান্দর। তখন বুঝবি ভূতের গল্প লেখার আসল মজা! কথাটা মনে রাখবি, বলেই সে লাটিমের মতো ঘুরতে ঘুরতে উধাও হয়ে গেল।

ক’দিন যাবত আমার শরীরটা মোটেও ভাল যাচ্ছে না। আমার পেছন দিকটায় টনটন ব্যথা করছে। হাত দিয়ে দেখি গোল আলুর মতো কী একটা ঠেলে উপরের দিকে উঠছে। একশ তিন ডিগ্রি জ্বর। এটা যে কিসের আলামত আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না! আপনারা বুঝতে পারলে কমেন্ট করে জানান। 🤪🤪🤪

Comments

Popular posts from this blog

 New state created After 1956 1. Gujrat and Maharashtra 2.kerala 3.karnataka  4.Nagaland  5.haryana 6. Himachal Pradesh 7. Meghalaya 8.Manipur  9.Tripura.  10. Sikkim 11.mizoram 12.Arunachalpradesh.  13. Goa.  14. Chattisgarh. 15.uttarakhand . 16. Jharkhand 17. Telengana Note- The all above states are created by state reorganization Act(1956)

শ্মশানঘাট ।

 “শ্মশানঘাট । সজল ব্যাটা একেবারে মহা হারকিপটে । কখনও ভুলেও ওর কাছ থেকে একটা টাকা খসানো যায় না । এমন নয় যে ওরা গরীব। টাকা পয়সা নেই । টাকা শহরে ও’র বাবার চার-চারটে বাড়ি ।  এখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো নানা রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য । ভাইগুলো সব বিদেশে লেখাপড়া করছে । দু’দিক থেকে টাকা পয়সা ওদের বাসায় ঢুকছে কিন্তু বেরুবার পথ পাচ্ছে না । তবুও ব্যাটার এমন কিপটেমি আমাদের আর সহ্য হয় না । দিনের পর দিন আমাদের টাকায় এটা সেটা খেয়ে দেয়ে বেশ আছে । তাই আমরা একদিন ঠিক করলাম যে, ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো ।  তাতে যাদি ওর হাড় কিপটেমি ভাবটা দূর হয়। রতনদের বাড়ী বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে । আমাদের স্কুল থেকে ওদের বাসাটা কাছে হওয়ায় স্কুল ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনগুলোতে আমাদের বেশির ভাগ আড্ডাগুলেই রতনদের দোতালার ছাদেই হতো ।  রতনদের ছাদ থেকে বড়ীগঙ্গা নদীর পুরোটা দেখা যায় । বিকেল বেলা নদীর বুকে ব্যস্ত লঞ্চগুলো দেখতে বেশ লাগে । তাই আড্ডার জন্য এর চেয়ে আর্দশের জায়গা আর হয় না । যে কোন ভাল জিনিষের পাশাপাশি যেমন একটা খারাপ জিনিষ থাকে । ঠিক তেমনি রতনদের ছাদ থেকে বুড়ীগঙ্গার সন্ধ্যাকালীন মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপ...

ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা

 সেই ছেলেবেলার বন্ধুত্বটাও  শেষ হয়ে গেছে । শুধু পড়ে রয়েছে  তাদের দুজনের সথে কাটানো সময় গুলো। হয়তো তারাও আর কিছু দিন পর অনেক দূরে সরে যাবে । তাদের সাথেও আর যোগাযোগ হবে না ।  সেই সাল টুকু মনে আছে 2013,14,15  ব্যাস আর তার পর সব অতীত যেনো । ভেবেছিলাম তাদের দুজনের সাথে আর কোনোদিন দেখা হবে না আমার সবাই আলাদা হয়ে যাবো। কিন্তু কাল চক্রে হঠাৎ করে তাদের দুজনের সাথে দেখা হয়। প্রায় 9 বছর পর  সবাই খুব বদলে গেছে কিন্তু আমাদের ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা যেনো বেঁচে আছে। ৮টা বছর পর যে তার সাথে দেখা মানে তাদের দুজনের সাথেই দেখা যেনো গল্প শেষ হতে চাই না। আর আমাদের দুষ্টুমি 😄 যেখানে সেখানে । আর সেই  Primary School ঘটনা গুলো নিয়ে চর্চা যেনো শেষ হওয়ার নাম নিত না । কি স্বর্ণ ময় যুগ ছিল বল, আমাদের সেই পরিষ্কার মন । দিন গুলো মনে করলে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে বল । কেনো বড় হলাম হুট করে সবাই আলাদা হলাম । কালচক্রে আমরা আবার সেই জাগাইতে Admisioon হলাম । কিন্তু তাই আবার আলাদা ক্লাস রুম বল। সেই  দিন গুলো আজও মনে আগত হয় ফিরে পায়ার চেষ্টায় বল কি আর করাই যায় । একদিন তো আমাদের...