Skip to main content

অদ্ভুত লাগে

 অদ্ভুত লাগে




নসাইড_দ্যা_ডোর

#পর্ব_২_ও_৩

সাইবা_

........................................... 

সোহানের ডাক শুনে তাবিয়া কিছুটা কেঁপে ওঠে। সাহেরা বেগমকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দৌড়ে ভেতরে চলে যায় সে।

পুরো বিষয়টা সাহেরা বেগমের অনেক অদ্ভুত লাগে। নিজের কাছেই নিজে প্রশ্ন রাখে,

" তাবিয়া কি চোখের ভাষায় কিছু বোঝাতে চেয়েছিলো আমাকে? যদি তাই হয় তাহলে কি বলতে চায় সে যা সরাসরি মুখে বলতে পারছে না?"

হাজার প্রশ্ন মাথায় নিয়ে সাহেরা বেগম গভীর চিন্তায় হারিয়ে যান। "তাবিয়া" চলে যাওয়ার পরে ডাঃ সোহান হাসিমুখে দরজার কাছে এসে দাঁড়ায়। সাহেরা বেগমকে বেশ কয়েকবার ডাক দেয় ডাঃ সোহান। কিন্তু ভাবনায় বিভোর সাহেরা বেগমের মাঝে কোনো প্রতিক্রিয়া পায় না। একটু জোরে ডাক দিতেই সাহেরা বেগম কিঞ্চিৎ কেঁপে ওঠেন। ডাঃ সোহানকে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সাহেরা বেগম বলেন,

-তোমাদের পরিচয়পত্র নেয়ার জন্য এসেছিলাম। তোমরা এসেছো তো বেশ কয়েকদিন হলো কিন্তু কাগজপত্র গুলো এখনো নেওয়া হয়নি।

সাহেরা বেগমের কথা শুনে সোহান "ওহ আচ্ছা আন্টি,আমি এখনই দিচ্ছি" বলে দরজা আঁটকে ভেতরে চলে গেল। বাইরে দাঁড় করিয়ে কথা বলার বিষয়ে এবারও বেশ বিরক্তবোধ করলেন সাহেরা বেগম। "এখন তো আর তারা নতুন আসেনি একজন মানুষকে এভাবে বাইরে দাঁড় করিয়ে কেউ

কথা বলে? আসলেই তাদের ভদ্রতার অভাব। "

দরজার সামনে দাঁড়িয়েই মনে মনে বিরবির করতে থাকেন সাহেরা বেগম। এরইমধ্যে ডাঃ সোহান ফিরে আসায় আবারও মুখে হাসি টেনে ডাঃ সোহানের দিকে ফিরে তাকান তিনি। 

ডাঃ সোহানের দিকে তাকিয়ে কথা বলার সময় সাহেরা বেগমের চোখ চলে যায় ডাঃ সোহানের বাসার ভেতরে। 

ভেতরে তাকিয়ে থাকতে দেখে ডাঃ সোহান তড়িঘড়ি করে ফাঁকা জায়গাটুকু আড়াল করে দরজার সাথে একদম মিশে দাঁড়িয়ে সাহেরা বেগমের দিকে কাগজপত্রগুলো এগিয়ে দেয়। 

সব কাগজপত্রগুলো ঠিক আছে কি না দেখে নিতে বলে।

সোহানের এমন আচরণে সাহেরা বেগম বেশ অবাক হন। সোহানের হাত থেকে কাগজপত্রগুলো নিয়ে উল্টেপাল্টে দেখে ডাঃ সোহানকে বলেন, 

-এখানে তো দেখছি সবই তোমার ইনফরমেশন। তোমার স্ত্রী "তাবিয়ার" কোনো কাগজপত্র তো দেখতে পাচ্ছি না।

সাহেরা বেগমের কথায় ডাঃ সোহান এবার একটু বিরক্ত হয়। বিরক্তি কন্ঠস্বর নিয়েই সাহেরা বেগমকে বলে,

-স্বামী স্ত্রী থাকলে যেকোনো একজনের কাগজপত্র দিলেই তো হয়, উভয়ের ইনফরমেশন দিতেই হবে এমন তো কোনো কথা নেই।

সাহেরা বেগম আর কোনো কথা বাড়ান না। আচ্ছা এখন তাহলে আসি বলে সিঁড়ির দিকে পা বাড়ান তিনি। 

সিঁড়ির দিকে যেতেই পেছন থেকে ঠাস করে দরজা আঁটকে দেয় ডাঃ সোহান। দরজাটা বেশ রাগ নিয়েই যে আঁটকেছে শব্দতে সেটা স্পষ্ট। কিন্তু এই রাগের কোনো কারণ খুঁজে পেলেন না সাহেরা বেগম। 

_____________

__________________

-কি গো! আজ এমন মুখ গোমড়া করে বসে আছো কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে! হলে আমাকে জানাও? 

সাহেরা বেগমকে মুখ ভার করে বসে থাকতে দেখতে তার দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন আতিক সাহেব। 

আতিক সাহেবের কন্ঠস্বর শুনে একটু নড়েচড়ে বসে সাহেরা বেগম বলেন,

-আজ সুমনের কথা খুব মনে পড়ছে জানো তো। কতোদিন ওকে দেখিনা,একটু ছুঁয়ে আদর করতে পারছি না। জানিনা কোথায় আছে ও। একবার আসুক খুব করে বকে দেবো, দেখো।

সুমনের কথা বলে দু'চোখের পানি ছেড়ে দিলেন সাহেরা বেগম। আতিক সাহেব উঠে সাহেরা বেগমের পাশে বসে তার হাত ধরে বলল, "সব ঠিক হয়ে যাবে। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছে তো, খুব শীঘ্রই সুমন আমাদের কাছে ফিরে আসবে। "

আতিক সাহেবের কথা শুনে সাহেরা বেগম চোখের পানি মুছে তার দিকে ফিরে বলে উঠলেন,

-জানো আজ আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করেছি । দোতলার ভাড়াটিয়াদের কাছে কাগজপত্র আনতে গিয়েছিলাম। আজ শুরুতে দরজা খুলেছিলো ডাঃ সোহানের স্ত্রী "তাবিয়া"।

মেয়েটার কি মায়াবী চেহারা। কিন্তু মেয়েটা মনে হয় কোনো সমস্যায় আছে। আমার দিকে ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। ডাঃ সোহানের ডাক শুনে কেঁপে উঠে ভেতরে চলে গেল। একটা কথাও বলল না আমার সাথে।  

সবচেয়ে বড় বিষয় কি জানো? ডাঃ সোহান যখন কাগজপত্র নিয়ে এলো তার পাশ থেকে আমি তাদের বাসার ভেতরে তাকিয়ে কয়েকমুহূর্তের জন্য আমি থমকে গেছিলাম। যতদূর দেখলাম বাসার ভেতরে একদম অন্ধকার, মাঝে মাঝে দুই একটা লাল লাইট জ্বলছে। লাল লাইটের সামান্য আলোতে আমি একটা বড় পুতুল দেখেছি। দেখতে অনেকটাই সুমনের মতো। তখন থেকে আমার সুমনের কথা খুব মনে পড়ছে। আমার ওই পরিবারের কোনোকিছুই ঠিক লাগছে না। তাদের আচার-আচরণ অনেক সন্দেহজনক। এমনকি তাবিয়ার কাগজপত্র চাইলে ডাঃ সোহান আমার উপর মনে মনে বেশ রেগে যায়। এর পেছনের কারণ কি হতে পারে বলো?


সাহেরা বেগমের কথায় এবার বেশ রেগে যান আতিক সাহেব। সাহেরা বেগমের হাত ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে ভাড়ি কন্ঠে বলেন,

-তোমার কি আর কোনো কাজ নেই? কে কি করলো না করলো, কার পরিবারে কি হলো এসব খবরাখবর নিয়ে তোমার কি লাভ। তাদের সাথে আমাদের বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক। তারা বাসার ভেতরে কিভাবে থাকে,কি করে এসব জেনে তোমার কি লাভ বলো তো?

বাকি রইলো সুমনের মতো দেখতে পুতুলের কথা!

তুমিই তো সেদিন বললে তাদের বড় বড় দু'টি পুতুল আছে। হতেই পারে তারমধ্য থেকে একটা তুমি দেখেছো,সুমনের কথা তোমার মাথায় ঘুরপাক খাওয়ায় তার মতোই দেখতে মনে হয়েছে তোমার। অন্যদের নিয়ে মাথা ঘামানোর অভ্যাসটা পরিবর্তন করো। নইলে এর জন্য একদিন তোমাকে অনেক পস্তাতে হবে দেখো।


এক নাগাড়ে কথাগুলো বলে রুম থেকে হনহনিয়ে বের হয়ে গেলেন আতিক সাহেব। 

সাহেরা বেগম নির্বাক হয়ে আতিক সাহেবের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

.

.

.

সকাল থেকে জানালা দিয়ে বাইরের গেটের দিকে নজর রেখেছেন সাহেরা বেগম। তিনি চাইলেও মাথা থেকে তাবিয়ার সেই কান্না মাখা মুখ ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না।

যে করেই হোক তাকে জানতেই হবে তাবিয়ার চোখের গভীরতা কি বোঝাতে চেয়েছিলো। 

সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়ে গেছে। সাহেরা বেগম ডাঃ সোহানকে গেট থেকে বের হতে দেখে খুব খুশি হলেন।

সিদ্ধান্ত নিলেন এই সুযোগে তাবিয়ার সাথে কথা বলে নিবেন। ভাবামাত্র তিনি দ্রুত দোতলার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলেন। 

.

.

.

দোতলায় গিয়ে সাহেরা বেগম আশাহত হলেন। তিনি গিয়ে দেখলেন ডাঃ সোহানের বাসা তালাবদ্ধ। কিন্তু একটু আগে তো তিনি ডাঃ সোহানকে একাই বের হতে দেখেছিলেন।

"এরমানে যদি আমি ভুল না হই তাবিয়া এই বদ্ধ বাসার ভেতরেই আছে।"

ভাবামাত্রই সাহেরা বেগম কলিংবেল প্রেস করেন। বেশ কয়েকবার কলিংবেল প্রেস করার পরেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পেলেন না। অগত্যা তিনি দরজায় নক করে বললেন,

-আমি জানি তাবিয়া তুমি ভেতরেই আছ। তোমার যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে আমাকে তুমি খুলে বলতে পারো। হতেও পারে আমার দ্বারা তোমার কোনো উপকার হলো।

এবার ভেতর থেকে হালকা কাঁশি দিয়ে তাবিয়া উত্তর দেয়,

-আমার কোনো সমস্যা নেই। তবে আপনি যদি চান আমার কোন সমস্যা না হোক তাহলে সোহানের অবর্তমানে বাসার সামনে কখনো না আসার অনুরোধ রইলো। 

তাবিয়ার কথায় নিজেই নিজের কাছে বেশ অপমানিত হলেন সাহেরা বেগম। তবুও তাবিয়ার কথার মাঝে একধরনের পিছুটান অনুভব করলেন।

তখনের মতো আর কথা বাড়ালেন না তিনি। অনেক কিছু জানার ছিলো তার। অনেক প্রশ্ন করার ছিলো তাবিয়াকে কিন্তু তাবিয়ার এভাবে বলার পরে কথা আগানোটা বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন না তিনি। 

ফিরে যাওয়ার সময় সাহেরা বেগমের চোখ পড়লো ডাঃ সোহানের বাসার দরজার নিচে। 

তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন দরজার নিচ থেকে কয়েক ফোটা তাজা রক্ত গড়িয়ে চলে এসেছে এপাশে। রক্ত দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলেন সাহেরা বেগম। কার বা কিসের রক্ত হতে পারে সেটা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি।

.

.

.

#পর্ব_৩


ফিরে যাওয়ার সময় সাহেরা বেগমের হঠাৎই চোখ পড়লো ডাঃ সোহানের বাসার দরজার নিচে। 

তিনি স্পষ্ট দেখতে পেলেন দরজার নিচ থেকে কয়েক ফোটা তাজা রক্ত গড়িয়ে চলে এসেছে এপাশে। রক্ত দেখে বেশ ঘাবড়ে গেলেন সাহেরা বেগম। কার বা কিসের রক্ত হতে পারে সেটা নিয়ে গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন তিনি।

.

.

.

.

আজ খুব খুশিমনে বাসায় এসেছে ডাঃ সোহান। 

সাথে করে তাবিয়ার জন্য সুন্দর একটা নীল রঙের শাড়ি কিনে নিয়ে এসেছে। শাড়ীর সাথে কিছু নীল চুড়ি ও বেলীফুলের মালা আনতেও ভুল করেনি। খুশিমনে বাসায় ঢোকার পরেই সব খুশি উবে গেলো ডাঃ সোহানের। দরজা থেকে শুরু করে পুরো বাসায় ফোঁটা ফোঁটা রক্ত ছড়িয়ে আছে। হাত থেকে শাড়ী চুড়ি সব ফেলে দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো তাবিয়ার কাছে। তাবিয়ার কাছে গিয়ে সোহান দেখতে পেলো তাবিয়া বিছানার উপর শুয়ে আছে। 

 তাবিয়ার কাছে যাওয়ার পরে সোহান দেখতে পায় তাবিয়া ঘুমিয়ে আছে আর তার শরীরের বিভিন্ন কাটা জায়গা থেকে রক্ত পড়ছে। সোহান এটা দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারলো না। তাবিয়ার হাত ধরে কাঁদতে শুরু করলো।

কিছুক্ষণ এভাবে কেটে যাওয়ার পরে ডাঃ সোহান উঠে পানি এনে তাতে কাপড় ভিজিয়ে খুব যত্নের সাথে তাবিয়ার রক্ত মাখা শরীর মুছে দিলো।ডাঃ সোহানের এমন কাজে, তাবিয়ার ঘুম ভেঙে যায়। প্রচন্ড ব্যাথায় কুঁকড়ে ওঠে সে। চোখ মেলে দেখতে পায় সোহান তার শরীর মুছে দিচ্ছে।স্ত্রীদের কাছে এটা একটা ভালো লাগার বিষয় হলেও ব্যাপারটায় একদমই খুশি হয় না তাবিয়া। 

.

.

.

.

তাবিয়ার শরীরের রক্তগুলো পরিষ্কার করে ডাঃ সোহান রান্নাঘরে চলে যায়। তড়িঘড়ি করে হালকা কিছু খাবার তৈরি করে তাবিয়ার কাছে ফিরে আসে। 

 কপালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে তাবিয়ার মুখে খাবার তুলে দেয় সোহান। কয়েক চামচ খাবার খাইয়ে দিয়ে ডাঃ সোহান বলতে শুরু করে,

- তাবিয়া! তুমি তো জানো তোমাকে আমি কতটা ভালোবাসি। তুমি ছাড়া এ পৃথিবীতে আমার আপন কেউ নেই। তবুও তুমি আমার কথা শুনে কেন চলো না?

তোমার খারাপ হোক সেটা আমি কখনোই চাই না। সেটা কেন বোঝো না তুমি? 

ডাঃ সোহানের কথাগুলো তাবিয়ার মাঝে কোনো ধরণের প্রভাব ফেললো না। প্রচন্ড ক্ষুধায় কাতর তাবিয়া নিজ মনে খাবার খেতে থাকে। 

খাবারের প্লেটটা সরিয়ে ডাঃ সোহান একটু গম্ভীর কণ্ঠে বলে , 

-আজ দরজার কাছে কেন গিয়েছিলে তাবিয়া?

ডাঃ সোহানের কথা শুনে এবার তাবিয়া বেশ ঘাবড়ে যায়। ভয়ে গলা দিয়ে খাবার আর নামে না। স্তব্ধ হয়ে ওভাবেই কিছুক্ষণ বসে থাকে। তাবিয়ার কাছ থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে রাগান্বিত হয়ে জোরে ধমক দিয়ে সোহান জিজ্ঞেস করে,

-উত্তর দাও! তুমি কেন দরজার কাছে গিয়েছিলে ? 

ডাঃ সোহানের ধমকে তাবিয়ার মুখ থেকে খাবার পরে যায়। ভয়ে তাবিয়া খাটের একদম কোণায় সরে যায়। সোহান ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে তাবিয়ার চুল মুঠো করে ধরে।প্রচন্ড ব্যাথায় তাবিয়ার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে শুরু করে। তাবিয়ার চোখের পানি দেখে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না সোহানের মাঝে।

বরং মুখে একটা নির্দয় ভাব ফুটিয়ে তুলে কঠোর কন্ঠে তাবিয়াকে বলে,

-বারণ করা সত্যেও তুমি এই রুম থেকে বাইরে পা রেখেছো। তোমার এই ভুলের জন্য শাস্তি তো তোমাকে পেতেই হবে। 

কথাটি বলার সাথে সাথে নিজের প্যান্টের পেছনে গুঁজে রাখা ছুড়ি বের করে।

সোহানের হাতে ছুড়ি দেখে তাবিয়া ভয়ে কাঁপতে শুরু করে। সোহান ছুড়ির ধারালো মাথার একটা অংশ তাবিয়ার ডান হাতের কনুই বরাবর ঢুকিয়ে একটা হ্যাচকা টান দিয়ে নিচের দিকে নামিয়ে আনে। তাবিয়ার হাতের বেশ অনেকটা অংশ কেটে চামড়া দু'দিকে ভাগ হয়ে যায়।কাটা জায়গা থেকে 

গলগল করে রক্ত পড়তে পড়তে বিছানার বেশ অনেক অংশ ভিজে চুপচুপে হয়ে যায়।মৃত্যুযন্ত্রনার মত ব্যাথা অনুভূত হয় তাবিয়ার। 

 কিন্তু মুখ থেকে একটু শব্দ বের করারও কোনো উপায় নেই। এক হাত দিয়ে শক্ত করে তাবিয়ার মুখ চেপে ধরে আছে সোহান।খানিক বাদে সুযোগ বুঝে মুখ থেকে হাত সরিয়ে একটা ওড়না দিয়ে বেঁধে দেয়।  

এরপর ফার্স্ট এইড কিট নিয়ে তাবিয়ার পাশেই চেয়ার টেনে বসে সে। হাতের কাছে যা ছিলো তা দিয়েই যতটা সম্ভব রক্ত আটকানোর চেষ্টা করে সে। রক্ত পড়া কমে এলে সোহান দেখতে পায় কনুই থেকে প্রায় কবজি পর্যন্ত কেটে গেছে। ডাঃ সোহান বুঝতে পারে এই মুহূর্তে কাটা জায়গায় সেলাইয়ের প্রয়োজন।তাবিয়ার উপর শুরু হয়ে যায় নির্যাতনের দ্বিতীয় পর্যায়। কোনো ধরণের অবশকৃত মেডিসিন না দিয়েই কাটা জায়গা সেলাই করতে শুরু করে। তীব্র ব্যাথায় গোঙাতে থাকে তাবিয়া। ব্যাথা সহ্য করতে না পেরে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে।

উন্মাদের মতো সেলাই শেষে তাবিয়ার দিকে তাকিয়ে সোহান বুঝতে পারে তাবিয়া জ্ঞান হারিয়েছে। হাত ছেড়ে দিয়ে তাবিয়ার মুখের বাঁধন খুলে বিছানায় শুইয়ে দেয়। মাথার কাছে বসে তাবিয়ার মাথায় হাত বুলাতে থাকে ডাঃ সোহান। 

.

.

.

.

জ্ঞান ফিরে এলে তাবিয়া ধীরে ধীরে চোখ মেলে তাকায়। চোখ মেলে তাবিয়া দেখতে পায় তার পাশে বসে অঝোর ধারায় কেঁদে চলেছে সোহান।তার হাতের কাটা জায়গাটাও সুন্দর করে ড্রেসিং করা।

তাবিয়ার নড়াচড়া বুঝতে পেরে সোহান তাবিয়ার দিকে ফিরে তাকায়। জ্ঞান ফিরে আসতে দেখে অনেক খুশি হয় সে।  

পাগলের মতো তাবিয়ার দু’চোখে নাকে মুখে চুমু খেতে থাকে। তাবিয়াকে বিছানা থেকে তুলে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে,

-তোমার কষ্ট আমার একদমই সহ্য হয় না তাবিয়া। তোমার শরীরের প্রতিটি আঘাত আমাকেও সমানভাবে কষ্ট দেয়। আমি নিজ চোখে তোমার এতো কষ্ট আর সহ্য করতে পারছি না।

কথাগুলো বলে ডুকরে কেঁদে ওঠে ডাঃ সোহান। তাবিয়া একদিকে দৃষ্টি স্থির করে পাথরের মতো সোহানের বুকের সাথে লেগে থাকে।

এক পর্যায়ে কান্না শেষ করে তাবিয়াকে বসিয়ে দিয়ে, চোখের পানি মুছতে মুছতে সোহান বলে,

-তোমার জন্য আজ আমি তোমার পছন্দের কিছু জিনিস এনেছি। তুমি দেখলে খুব খুশি হবে। 

একটু অপেক্ষা করো আমি এক্ষুনি নিয়ে আসছি। 

তাবিয়ার উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলে দ্রুত রুমের বাইরে চলে যায় ডাঃ সোহান। 

কিছুক্ষণের মধ্যে সোহান আবার ফিরে আসে হাতে করে নীল একটা শাড়ী, নীল চুড়ি ও বেলীফুলের খোঁপা সহ। তাবিয়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে "আজ অনেক ঘুরে তোমার জন্য বেলীফুলের এই মালাটা এনেছি তোমার খোঁপায় পরিয়ে দেবো বলে আশা করি আমাকে ফিরিয়ে দেবে না! জানো নীল শাড়ীতে তোমাকে একদম নীল পরীর মতো লাগে। নীল রঙটা তো তোমারও পছন্দ তাই না। আজ আমি তোমার পছন্দের সবকিছু দিয়ে আমার মনের মতো করে তোমাকে সাজাবো।"

সোহানের কথায় কোনো জবাব দেয় না তাবিয়া। সে জানে এখানে তার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোনো দাম নেই। তার হ্যা বা না বলাতে কিছুই যায় আসে না তাই সোহানের কথা চুপচাপ মেনে নেওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই। অন্য সময় হলে এসব দেখে অনেক খুশি হতো তাবিয়া, কিন্তু আজ তার কাছে এই সবকিছুই বিষাক্ত মনে হচ্ছে। 

তাবিয়া আর কিছু না ভেবে ব্যাথায় কাতর শরীর নিয়ে বিছানা থেকে নেমে দাঁড়ায় । 

সোহানের হাত থেকে শাড়ীটা নিতে গেলে সোহান বাঁধা দিয়ে বলে,

-উহু একদম না। বলেছি না আজ আমার পরীটাকে আমি নিজ হাতে সাজাবো।

তাবিয়া আর কথা বাড়ালো না৷ সোহান কাছে এসে তাবিয়াকে সুন্দর করে শাড়ী পরাতে লাগলো।

তাবিয়াকে শাড়ী পরিয়ে দেয়ার মাঝে মাঝে তাবিয়ার কাটা হাতে বার বার চুমু খেয়ে যাচ্ছে ডাঃ সোহান।  

শাড়ী পরানো শেষে,বেলীফুলের মালাটাও সুন্দর করে খোঁপায় জড়িয়ে দেয় সে। নীল চুড়িগুলো খুলে এক এক করে হাতে পরিয়ে দেয়। কাটা হাতে চুড়ি পরাতে গিয়ে দুচোখ পানিতে ভরে ওঠে ডাঃ সোহানের। 

অভিমানের সুরে তাবিয়াকে বলে,

-তোমাকে দেখাশোনা করার জন্য বাসায় এতো মানুষ থাকা সত্তেও তোমার রুমের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজনটা কি বলো তো?

.

.

.

.

.

চলবে

Comments

Popular posts from this blog

 New state created After 1956 1. Gujrat and Maharashtra 2.kerala 3.karnataka  4.Nagaland  5.haryana 6. Himachal Pradesh 7. Meghalaya 8.Manipur  9.Tripura.  10. Sikkim 11.mizoram 12.Arunachalpradesh.  13. Goa.  14. Chattisgarh. 15.uttarakhand . 16. Jharkhand 17. Telengana Note- The all above states are created by state reorganization Act(1956)

শ্মশানঘাট ।

 “শ্মশানঘাট । সজল ব্যাটা একেবারে মহা হারকিপটে । কখনও ভুলেও ওর কাছ থেকে একটা টাকা খসানো যায় না । এমন নয় যে ওরা গরীব। টাকা পয়সা নেই । টাকা শহরে ও’র বাবার চার-চারটে বাড়ি ।  এখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো নানা রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য । ভাইগুলো সব বিদেশে লেখাপড়া করছে । দু’দিক থেকে টাকা পয়সা ওদের বাসায় ঢুকছে কিন্তু বেরুবার পথ পাচ্ছে না । তবুও ব্যাটার এমন কিপটেমি আমাদের আর সহ্য হয় না । দিনের পর দিন আমাদের টাকায় এটা সেটা খেয়ে দেয়ে বেশ আছে । তাই আমরা একদিন ঠিক করলাম যে, ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো ।  তাতে যাদি ওর হাড় কিপটেমি ভাবটা দূর হয়। রতনদের বাড়ী বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে । আমাদের স্কুল থেকে ওদের বাসাটা কাছে হওয়ায় স্কুল ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনগুলোতে আমাদের বেশির ভাগ আড্ডাগুলেই রতনদের দোতালার ছাদেই হতো ।  রতনদের ছাদ থেকে বড়ীগঙ্গা নদীর পুরোটা দেখা যায় । বিকেল বেলা নদীর বুকে ব্যস্ত লঞ্চগুলো দেখতে বেশ লাগে । তাই আড্ডার জন্য এর চেয়ে আর্দশের জায়গা আর হয় না । যে কোন ভাল জিনিষের পাশাপাশি যেমন একটা খারাপ জিনিষ থাকে । ঠিক তেমনি রতনদের ছাদ থেকে বুড়ীগঙ্গার সন্ধ্যাকালীন মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপ...

ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা

 সেই ছেলেবেলার বন্ধুত্বটাও  শেষ হয়ে গেছে । শুধু পড়ে রয়েছে  তাদের দুজনের সথে কাটানো সময় গুলো। হয়তো তারাও আর কিছু দিন পর অনেক দূরে সরে যাবে । তাদের সাথেও আর যোগাযোগ হবে না ।  সেই সাল টুকু মনে আছে 2013,14,15  ব্যাস আর তার পর সব অতীত যেনো । ভেবেছিলাম তাদের দুজনের সাথে আর কোনোদিন দেখা হবে না আমার সবাই আলাদা হয়ে যাবো। কিন্তু কাল চক্রে হঠাৎ করে তাদের দুজনের সাথে দেখা হয়। প্রায় 9 বছর পর  সবাই খুব বদলে গেছে কিন্তু আমাদের ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা যেনো বেঁচে আছে। ৮টা বছর পর যে তার সাথে দেখা মানে তাদের দুজনের সাথেই দেখা যেনো গল্প শেষ হতে চাই না। আর আমাদের দুষ্টুমি 😄 যেখানে সেখানে । আর সেই  Primary School ঘটনা গুলো নিয়ে চর্চা যেনো শেষ হওয়ার নাম নিত না । কি স্বর্ণ ময় যুগ ছিল বল, আমাদের সেই পরিষ্কার মন । দিন গুলো মনে করলে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে বল । কেনো বড় হলাম হুট করে সবাই আলাদা হলাম । কালচক্রে আমরা আবার সেই জাগাইতে Admisioon হলাম । কিন্তু তাই আবার আলাদা ক্লাস রুম বল। সেই  দিন গুলো আজও মনে আগত হয় ফিরে পায়ার চেষ্টায় বল কি আর করাই যায় । একদিন তো আমাদের...