Skip to main content

পাশে #থাকার #উপন্যাস

 #পাশে #থাকার #উপন্যাস 


-'তুই চাকরি করিস,আরও অনেক ভালো ছেলে পাবি আরও দু একজন পাত্র দেখাই হোক না।'


মায়ের কথার মধ্যে অনিচ্ছা প্রকাশ এর সুর খুঁজে পেলেও গুঞ্জনা পুনরায় একই কথা বলল-


-'না মা,ছেলেটার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই ওর ওপর কেমন একটা বিশ্বাস জন্মে গেছে আমার।আর তাছাড়া সবাই তো সরকারি চাকরির ছেলে খুঁজছে,আমি না হয় একজন চাকরি না দেখে একজন ভরসাযোগ্য ছেলেরই নয় হাত ধরলাম।'


মেয়ের মতামত শুনে এবার পাশ থেকে বাবা বলতে বাধ্য হলো-


-'জেনে বুঝে আমরা কীকরে একজন বেকার ছেলের হাতে তোকে তুলে দিতে পারি বল।এক যদি কোনো দোকান বা ছোটো খাটোও ব্যবসা থাকতো দেখা যেত শুধু টিউশন পড়ায়।তোকে কতটা কী ভালো রাখতে পারবে! নানা তুই বরং অন্য কোনো ছেলে দেখ গুঞ্জা।আমরা ঠিক মন থেকে সম্বন্ধটা মানতে পারছি না।'


মা বাবা আত্মীয় পরিজন কারোর কথাই গুঞ্জনাকে ওর নিজের বিচার থেকে নড়াতে পারলো না এত টুকু।অবশেষে,শুভায়নের সাথে গুঞ্জনার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হলো।


বিবাহের মাস খানেক পর ওদের হানিমুনের জায়গা ঠিক হলো দীঘায়।গুঞ্জনার বাড়ি থেকে চেয়েছিলো মেয়ে জামাই মেঘালয়ে যাক।এ জন্য তারা ব্যবস্থা করে দিতেও চেয়েছিলো।কারন-সদ্য বিবাহের পর শুভায়নের হাতে তেমন পুঁজি ছিলোনা।কিন্তু,শুভায়ন শ্বশুরবাড়ির টাকায় হানিমুনে যেতে রাজি ছিলো না।আর গুঞ্জনাও চেয়ে ছিলো,শুভায়ন প্রথবমার ভালোবেসে যেখানে নিয়ে যাবে ওর সামর্থ্যমত ও সেখানেই যাবে।অতএব,হানিমুনটা হলো দীঘাতেই।


হানিমুনে যাওয়ার আগের দিন রাতে শুভায়ন স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো-


-'তোমারও মেঘালয়ে যাওয়ারই ইচ্ছে ছিলো তাইনা?'


গুঞ্জনা বুঝলো,যদি সত্যিটা বলি তবে শুভায়নের ভেতরে ভেতরে খারাপ লাগবে।তাই ও উত্তর দিলো-


-'আমি কোনোদিন সমুদ্রে যাইনি।মেঘালয় নয় অন্যকোনো বার যাওয়া হবে।বরং, আমি খুশি হয়েছি তুমি ও বাড়ি থেকে সাহায্যটা নাওনি বলে।'


যদিও শেষের কথাগুলো গুঞ্জনা অন্তর থেকেই বলে ছিলো।বিবাহের পর যতই হোক,সব মেয়েরাই চায় তার স্বামী মর্যাদাটা তার বাবা মায়ের কাছে কোথাও যেন পড়ে না যায়।সাহায্য নিলে একটু হলেও সে

নিজের সম্মানের অমর্যাদা করে ফেলতো বৈকি...।


যাই হোক,গুঞ্জনার উত্তর শুনে শুভায়নের হৃদয় প্রসন্ন হলো এবং হানিমুনে যাওয়ার আগেই তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আর একটু পোক্ত বিশ্বাসে ও একই সাথে নরম প্রণয়ের আগুনে বিগলিত হলো।


দীঘায় মধুচন্দ্রিমার মধুর স্মৃতি সারা জীবনের মতন দুটো অন্তরের ডায়রিয়ে সঞ্চয় করে ফিরে আসবার পর রবিবার স্কুলের ছুটি দেখে গুঞ্জনা বাপের বাড়ি

গেলো দীঘা থেকে আনা খাবার ও উপহার সঙ্গেকরে নিয়ে।সেদিন ওর মা বাবা আর বাড়ি ফিরতে দিলো না।সন্ধ্যেয় বাবামা'র জন্য আনা উপহার তাদের হাতে দিয়ে হাসিমুখে গুঞ্জনা তাদের জিজ্ঞেস করলো-


-'তোমাদের পছন্দ হয়েছে তো?'


মেয়ের হাসিমুখ দেখে হঠাৎ মায়ের চোখ ভরে জলের রেখা ছেয়ে উঠলো।মা চোখ দুটো সঙ্গে সঙ্গে মুছেই মেয়ের গালে গভীর স্নেহের সাথে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-


-'তুই সত্যি ভালো আছিস তো?নাকি আমরা যাতে কষ্ট না পাই সে জন্য ওপর ওপর হাসছিস?'


গুঞ্জনা মায়ের আদুরে হাতে আলতুভাবে একবার চুম্বন করে তারপর বলল-


-'তোমার আমায় দেখে কী তাই মনে হচ্ছে যে আমি সুখে নেই।জানি,তোমাদের জামাই তোমাদের থেকে বেড়াতে যাওয়ার জন্য হেল্প নিলোনা বলে তোমরা দুজনেই ওর সম্বন্ধে অন্যকিছু ভাবছো।কিন্তু,তোমরা

বিশ্বাস করো আমি ও ঘরে একদম অসুখী নেই।বরং ওর মত একজনকে পেয়ে আমি বেশ খুশিতে আছি।'


মেয়ের মুখের কথাগুলো শুনে এবার বাবা বলল-


-'তুই যতই বলিস,ও তোর সব সখ কখনোই মেটাতে পারছে না মনে হচ্ছে।তাইতো আমাদের সব সময়েই দুশ্চিন্তা হয় তোকে নিয়ে।তোকেই বোধহয় সংসারের খরচ চালাতে হয় তাই না?ঐ সামান্য কটা টিউশুনির টাকায় চারজনের ভরনপোষণ সম্ভব নাকি..।'


গুঞ্জনা সব শুনে উত্তর দিলো-


-'ও আমার থেকে এক টাকাও নেয় না বাবা।তাছাড়া যদি নেয়ও বা প্রয়োজনে তো ফিরিয়ে দেয়।ছেলেটা মন্দ নয় বাবা।তোমরা মন থেকে ওকে এবার মেনে নাও। আমি বলছি,এই তোমার মেয়ে ভুল করেনি।'


অগত্যা..।পরদিন গুঞ্জনা ফেরার সময় ওর মা বাবা দুজনেই ওকে কিছু কিছু টাকা দিতে চাইলো।গুঞ্জনা তা ফিরিয়ে দিয়ে বলল-


-'যদি আমার অভাব আছে ভেবে টাকাগুলো দিতে চাইছো,তাহলে আমি নেবোনা।আর যদি ভালোবেসে দিচ্ছো বলে ভাবো,তাহলে তোমাদের কাছেই গচ্ছিত

রেখে যাবো।ভালোবাসা গচ্ছিত রাখলেই বাড়ে।'


সেদিন বাড়ি ফিরে শুভায়নের চোখে মুখে তার বাড়ি ফেরার আনন্দ ও একই সাথে কীসের জন্য দুশ্চিন্তার ছাপও লক্ষ্য করলো গুঞ্জনা।কারন জানতে চাইলে শুভায়ন কারনটা চেপে রাখতে পারলোনা।সে বলল-


-'ভবিষ্যতে এবার যে আসবে,বাবা হিসেবে তার কথা তো আমারও ভাবা দরকার।কিন্তু,আমারতো জমানো পুঁজি তেমন নেই।আর এখন তো কিছু আলাদা ভাবে

রাখাটাও সম্ভব না।'


শুভায়নের চিন্তা দেখে গুঞ্জনা তার কপালে মায়ের মত মমতাভরা দুহাত ঠেকিয়ে কোমল সুরে বলল-


-'আমি তো আছি।কথা ছিলো না,দুজনে সবটা ভাগ করে নেবো।যে আসবে সে তো আমাদের দুজনেরই হবে।কোনো অসুবিধে হবেনা দেখো।'


শুভায়ন গুঞ্জনার হাতটা নিজের গালের কাছ থেকে হাতে টেনে নিয়ে জড়িয়ে বলল-


-'আমি অবস্থা জেনেও আমার ঘরে আসতে চেয়ে তুমি হয়তো ভুলই করলে।'


তখন গুঞ্জনা শুভায়নের চোখের দিকে চেয়ে বলল-


-'ভুল তো এই মুহুর্তে করে ফেললাম আমি তোমাকে এসব বলতে দিয়ে।এরপর একটাও আর বললে ছেড়ে চলে যাবো কিন্তু তোমার দিব্যি।'


শুভায়নের শেষের কথাটা শোনামাত্র গুঞ্জনার মুখে আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো।গুঞ্জনা হাসলো।তারপর আঙুল সরিয়ে বলল-


-'এত যে ভালোবাসো সেইটা কখনও বললেনা।আর আমি ভুল করেছি বলতে পারলে?'


কিছুক্ষন রাতের গভীর আলোতেও দুটো মুখে যেন কোন শুভ একাদশীর চাঁদের আলো ম্লান হয়ে ফুটে উঠলো।ক্ষনিক বিরতির পর স্তব্ধতা ভঙ্গ করে গুঞ্জনা

বলল-


-'তুমি ভাবী সন্তানের বাবা হিসেবে দায়িত্ব পূরন করতে চাও তো, তাহলে আমি যদি পাশে থাকি,থাকতে দেবে?'


শুভায়ন বলল-


-'তুমি তো সাথেই আছো।আর কীভাবে থাকতে চাও বলো।'


গুঞ্জনা বলল-


-'আমি টাকা দিলে তুমি কী গাছের নার্সারি বানাবে?'


শুভায়ন বলল-


-'তুমি কী ফের আমার হারানো স্বপ্ন দেখাতে চাইছো আমায়?'


গুঞ্জনা বলল-


-'পুরানো ডায়রিগুলো পড়ে জেনেছি।আজকাল আর লেখোনা কেন?'


শুভায়ন বিমর্ষচিত্তে বলল-


-'স্বপ্ন হারিয়ে গেছে বলে।'


গুঞ্জনা বলল-


-'আবার দেখতে শুরু করো।নিজের জন্য।নিজের ভাবী সন্তানের জন্য।আমি সাথে আছি।'


একটা স্বপ্নহারানো মানুষের কাছে সবচেয়ে কাছের মানুষটার "আমি সাথে আছি" এই টুকু বিশ্বাস দেওয়াই ফের নতুন করে তার স্বপ্ন দেখার পক্ষে যথেষ্ট নয় কী??


...................…......................................................

-'তুই চাকরি করিস,আরও অনেক ভালো ছেলে পাবি আরও দু একজন পাত্র দেখাই হোক না।'


মায়ের কথার মধ্যে অনিচ্ছা প্রকাশ এর সুর খুঁজে পেলেও গুঞ্জনা পুনরায় একই কথা বলল-


-'না মা,ছেলেটার সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই ওর ওপর কেমন একটা বিশ্বাস জন্মে গেছে আমার।আর তাছাড়া সবাই তো সরকারি চাকরির ছেলে খুঁজছে,আমি না হয় একজন চাকরি না দেখে একজন ভরসাযোগ্য ছেলেরই নয় হাত ধরলাম।'


মেয়ের মতামত শুনে এবার পাশ থেকে বাবা বলতে বাধ্য হলো-


-'জেনে বুঝে আমরা কীকরে একজন বেকার ছেলের হাতে তোকে তুলে দিতে পারি বল।এক যদি কোনো দোকান বা ছোটো খাটোও ব্যবসা থাকতো দেখা যেত শুধু টিউশন পড়ায়।তোকে কতটা কী ভালো রাখতে পারবে! নানা তুই বরং অন্য কোনো ছেলে দেখ গুঞ্জা।আমরা ঠিক মন থেকে সম্বন্ধটা মানতে পারছি না।'


মা বাবা আত্মীয় পরিজন কারোর কথাই গুঞ্জনাকে ওর নিজের বিচার থেকে নড়াতে পারলো না এত টুকু।অবশেষে,শুভায়নের সাথে গুঞ্জনার শুভ বিবাহ সম্পন্ন হলো।


বিবাহের মাস খানেক পর ওদের হানিমুনের জায়গা ঠিক হলো দীঘায়।গুঞ্জনার বাড়ি থেকে চেয়েছিলো মেয়ে জামাই মেঘালয়ে যাক।এ জন্য তারা ব্যবস্থা করে দিতেও চেয়েছিলো।কারন-সদ্য বিবাহের পর শুভায়নের হাতে তেমন পুঁজি ছিলোনা।কিন্তু,শুভায়ন শ্বশুরবাড়ির টাকায় হানিমুনে যেতে রাজি ছিলো না।আর গুঞ্জনাও চেয়ে ছিলো,শুভায়ন প্রথবমার ভালোবেসে যেখানে নিয়ে যাবে ওর সামর্থ্যমত ও সেখানেই যাবে।অতএব,হানিমুনটা হলো দীঘাতেই।


হানিমুনে যাওয়ার আগের দিন রাতে শুভায়ন স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো-


-'তোমারও মেঘালয়ে যাওয়ারই ইচ্ছে ছিলো তাইনা?'


গুঞ্জনা বুঝলো,যদি সত্যিটা বলি তবে শুভায়নের ভেতরে ভেতরে খারাপ লাগবে।তাই ও উত্তর দিলো-


-'আমি কোনোদিন সমুদ্রে যাইনি।মেঘালয় নয় অন্যকোনো বার যাওয়া হবে।বরং, আমি খুশি হয়েছি তুমি ও বাড়ি থেকে সাহায্যটা নাওনি বলে।'


যদিও শেষের কথাগুলো গুঞ্জনা অন্তর থেকেই বলে ছিলো।বিবাহের পর যতই হোক,সব মেয়েরাই চায় তার স্বামী মর্যাদাটা তার বাবা মায়ের কাছে কোথাও যেন পড়ে না যায়।সাহায্য নিলে একটু হলেও সে

নিজের সম্মানের অমর্যাদা করে ফেলতো বৈকি...।


যাই হোক,গুঞ্জনার উত্তর শুনে শুভায়নের হৃদয় প্রসন্ন হলো এবং হানিমুনে যাওয়ার আগেই তাদের দুজনের মধ্যে সম্পর্ক আর একটু পোক্ত বিশ্বাসে ও একই সাথে নরম প্রণয়ের আগুনে বিগলিত হলো।


দীঘায় মধুচন্দ্রিমার মধুর স্মৃতি সারা জীবনের মতন দুটো অন্তরের ডায়রিয়ে সঞ্চয় করে ফিরে আসবার পর রবিবার স্কুলের ছুটি দেখে গুঞ্জনা বাপের বাড়ি

গেলো দীঘা থেকে আনা খাবার ও উপহার সঙ্গেকরে নিয়ে।সেদিন ওর মা বাবা আর বাড়ি ফিরতে দিলো না।সন্ধ্যেয় বাবামা'র জন্য আনা উপহার তাদের হাতে দিয়ে হাসিমুখে গুঞ্জনা তাদের জিজ্ঞেস করলো-


-'তোমাদের পছন্দ হয়েছে তো?'


মেয়ের হাসিমুখ দেখে হঠাৎ মায়ের চোখ ভরে জলের রেখা ছেয়ে উঠলো।মা চোখ দুটো সঙ্গে সঙ্গে মুছেই মেয়ের গালে গভীর স্নেহের সাথে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলল-


-'তুই সত্যি ভালো আছিস তো?নাকি আমরা যাতে কষ্ট না পাই সে জন্য ওপর ওপর হাসছিস?'


গুঞ্জনা মায়ের আদুরে হাতে আলতুভাবে একবার চুম্বন করে তারপর বলল-


-'তোমার আমায় দেখে কী তাই মনে হচ্ছে যে আমি সুখে নেই।জানি,তোমাদের জামাই তোমাদের থেকে বেড়াতে যাওয়ার জন্য হেল্প নিলোনা বলে তোমরা দুজনেই ওর সম্বন্ধে অন্যকিছু ভাবছো।কিন্তু,তোমরা

বিশ্বাস করো আমি ও ঘরে একদম অসুখী নেই।বরং ওর মত একজনকে পেয়ে আমি বেশ খুশিতে আছি।'


মেয়ের মুখের কথাগুলো শুনে এবার বাবা বলল-


-'তুই যতই বলিস,ও তোর সব সখ কখনোই মেটাতে পারছে না মনে হচ্ছে।তাইতো আমাদের সব সময়েই দুশ্চিন্তা হয় তোকে নিয়ে।তোকেই বোধহয় সংসারের খরচ চালাতে হয় তাই না?ঐ সামান্য কটা টিউশুনির টাকায় চারজনের ভরনপোষণ সম্ভব নাকি..।'


গুঞ্জনা সব শুনে উত্তর দিলো-


-'ও আমার থেকে এক টাকাও নেয় না বাবা।তাছাড়া যদি নেয়ও বা প্রয়োজনে তো ফিরিয়ে দেয়।ছেলেটা মন্দ নয় বাবা।তোমরা মন থেকে ওকে এবার মেনে নাও। আমি বলছি,এই তোমার মেয়ে ভুল করেনি।'


অগত্যা..।পরদিন গুঞ্জনা ফেরার সময় ওর মা বাবা দুজনেই ওকে কিছু কিছু টাকা দিতে চাইলো।গুঞ্জনা তা ফিরিয়ে দিয়ে বলল-


-'যদি আমার অভাব আছে ভেবে টাকাগুলো দিতে চাইছো,তাহলে আমি নেবোনা।আর যদি ভালোবেসে দিচ্ছো বলে ভাবো,তাহলে তোমাদের কাছেই গচ্ছিত

রেখে যাবো।ভালোবাসা গচ্ছিত রাখলেই বাড়ে।'


সেদিন বাড়ি ফিরে শুভায়নের চোখে মুখে তার বাড়ি ফেরার আনন্দ ও একই সাথে কীসের জন্য দুশ্চিন্তার ছাপও লক্ষ্য করলো গুঞ্জনা।কারন জানতে চাইলে শুভায়ন কারনটা চেপে রাখতে পারলোনা।সে বলল-


-'ভবিষ্যতে এবার যে আসবে,বাবা হিসেবে তার কথা তো আমারও ভাবা দরকার।কিন্তু,আমারতো জমানো পুঁজি তেমন নেই।আর এখন তো কিছু আলাদা ভাবে

রাখাটাও সম্ভব না।'


শুভায়নের চিন্তা দেখে গুঞ্জনা তার কপালে মায়ের মত মমতাভরা দুহাত ঠেকিয়ে কোমল সুরে বলল-


-'আমি তো আছি।কথা ছিলো না,দুজনে সবটা ভাগ করে নেবো।যে আসবে সে তো আমাদের দুজনেরই হবে।কোনো অসুবিধে হবেনা দেখো।'


শুভায়ন গুঞ্জনার হাতটা নিজের গালের কাছ থেকে হাতে টেনে নিয়ে জড়িয়ে বলল-


-'আমি অবস্থা জেনেও আমার ঘরে আসতে চেয়ে তুমি হয়তো ভুলই করলে।'


তখন গুঞ্জনা শুভায়নের চোখের দিকে চেয়ে বলল-


-'ভুল তো এই মুহুর্তে করে ফেললাম আমি তোমাকে এসব বলতে দিয়ে।এরপর একটাও আর বললে ছেড়ে চলে যাবো কিন্তু তোমার দিব্যি।'


শুভায়নের শেষের কথাটা শোনামাত্র গুঞ্জনার মুখে আঙুল দিয়ে চেপে ধরলো।গুঞ্জনা হাসলো।তারপর আঙুল সরিয়ে বলল-


-'এত যে ভালোবাসো সেইটা কখনও বললেনা।আর আমি ভুল করেছি বলতে পারলে?'


কিছুক্ষন রাতের গভীর আলোতেও দুটো মুখে যেন কোন শুভ একাদশীর চাঁদের আলো ম্লান হয়ে ফুটে উঠলো।ক্ষনিক বিরতির পর স্তব্ধতা ভঙ্গ করে গুঞ্জনা

বলল-


-'তুমি ভাবী সন্তানের বাবা হিসেবে দায়িত্ব পূরন করতে চাও তো, তাহলে আমি যদি পাশে থাকি,থাকতে দেবে?'


শুভায়ন বলল-


-'তুমি তো সাথেই আছো।আর কীভাবে থাকতে চাও বলো।'


গুঞ্জনা বলল-


-'আমি টাকা দিলে তুমি কী গাছের নার্সারি বানাবে?'


শুভায়ন বলল-


-'তুমি কী ফের আমার হারানো স্বপ্ন দেখাতে চাইছো আমায়?'


গুঞ্জনা বলল-


-'পুরানো ডায়রিগুলো পড়ে জেনেছি।আজকাল আর লেখোনা কেন?'


শুভায়ন বিমর্ষচিত্তে বলল-


-'স্বপ্ন হারিয়ে গেছে বলে।'


গুঞ্জনা বলল-


-'আবার দেখতে শুরু করো।নিজের জন্য।নিজের ভাবী সন্তানের জন্য।আমি সাথে আছি।'


একটা স্বপ্নহারানো মানুষের কাছে সবচেয়ে কাছের মানুষটার "আমি সাথে আছি" এই টুকু বিশ্বাস দেওয়াই ফের নতুন করে তার স্বপ্ন দেখার পক্ষে যথেষ্ট নয় কী??


...................…......................................................

Comments

Popular posts from this blog

 New state created After 1956 1. Gujrat and Maharashtra 2.kerala 3.karnataka  4.Nagaland  5.haryana 6. Himachal Pradesh 7. Meghalaya 8.Manipur  9.Tripura.  10. Sikkim 11.mizoram 12.Arunachalpradesh.  13. Goa.  14. Chattisgarh. 15.uttarakhand . 16. Jharkhand 17. Telengana Note- The all above states are created by state reorganization Act(1956)

শ্মশানঘাট ।

 “শ্মশানঘাট । সজল ব্যাটা একেবারে মহা হারকিপটে । কখনও ভুলেও ওর কাছ থেকে একটা টাকা খসানো যায় না । এমন নয় যে ওরা গরীব। টাকা পয়সা নেই । টাকা শহরে ও’র বাবার চার-চারটে বাড়ি ।  এখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো নানা রকমের ব্যবসা-বাণিজ্য । ভাইগুলো সব বিদেশে লেখাপড়া করছে । দু’দিক থেকে টাকা পয়সা ওদের বাসায় ঢুকছে কিন্তু বেরুবার পথ পাচ্ছে না । তবুও ব্যাটার এমন কিপটেমি আমাদের আর সহ্য হয় না । দিনের পর দিন আমাদের টাকায় এটা সেটা খেয়ে দেয়ে বেশ আছে । তাই আমরা একদিন ঠিক করলাম যে, ওকে একটা শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো ।  তাতে যাদি ওর হাড় কিপটেমি ভাবটা দূর হয়। রতনদের বাড়ী বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে । আমাদের স্কুল থেকে ওদের বাসাটা কাছে হওয়ায় স্কুল ছুটির পর কিংবা বন্ধের দিনগুলোতে আমাদের বেশির ভাগ আড্ডাগুলেই রতনদের দোতালার ছাদেই হতো ।  রতনদের ছাদ থেকে বড়ীগঙ্গা নদীর পুরোটা দেখা যায় । বিকেল বেলা নদীর বুকে ব্যস্ত লঞ্চগুলো দেখতে বেশ লাগে । তাই আড্ডার জন্য এর চেয়ে আর্দশের জায়গা আর হয় না । যে কোন ভাল জিনিষের পাশাপাশি যেমন একটা খারাপ জিনিষ থাকে । ঠিক তেমনি রতনদের ছাদ থেকে বুড়ীগঙ্গার সন্ধ্যাকালীন মনোরম দৃশ্য দেখার পাশাপ...

ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা

 সেই ছেলেবেলার বন্ধুত্বটাও  শেষ হয়ে গেছে । শুধু পড়ে রয়েছে  তাদের দুজনের সথে কাটানো সময় গুলো। হয়তো তারাও আর কিছু দিন পর অনেক দূরে সরে যাবে । তাদের সাথেও আর যোগাযোগ হবে না ।  সেই সাল টুকু মনে আছে 2013,14,15  ব্যাস আর তার পর সব অতীত যেনো । ভেবেছিলাম তাদের দুজনের সাথে আর কোনোদিন দেখা হবে না আমার সবাই আলাদা হয়ে যাবো। কিন্তু কাল চক্রে হঠাৎ করে তাদের দুজনের সাথে দেখা হয়। প্রায় 9 বছর পর  সবাই খুব বদলে গেছে কিন্তু আমাদের ছেলেবেলার বন্ধুত্বটা যেনো বেঁচে আছে। ৮টা বছর পর যে তার সাথে দেখা মানে তাদের দুজনের সাথেই দেখা যেনো গল্প শেষ হতে চাই না। আর আমাদের দুষ্টুমি 😄 যেখানে সেখানে । আর সেই  Primary School ঘটনা গুলো নিয়ে চর্চা যেনো শেষ হওয়ার নাম নিত না । কি স্বর্ণ ময় যুগ ছিল বল, আমাদের সেই পরিষ্কার মন । দিন গুলো মনে করলে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে বল । কেনো বড় হলাম হুট করে সবাই আলাদা হলাম । কালচক্রে আমরা আবার সেই জাগাইতে Admisioon হলাম । কিন্তু তাই আবার আলাদা ক্লাস রুম বল। সেই  দিন গুলো আজও মনে আগত হয় ফিরে পায়ার চেষ্টায় বল কি আর করাই যায় । একদিন তো আমাদের...